Site icon Peak69 outdoor and adventure

স্লিপিংব্যাগ কেনার আগে জেনে নিন

স্লিপিংব্যাগ

স্লিপিংব্যাগ

স্লিপিংব্যাগ কেনার আগে জেনে নিন কি কি দেখে কিনবেন আর কোনটা আপনার প্রয়োজন।

ব্যাকপ্যাকিং ও আউটডোর ক্যাম্পিং এর জন্য স্লিপিংব্যাগ খুবই অপরিহার্য একটু গিয়ার। অনেকেই হয়তো স্লিপিংব্যাগ নিয়ে ট্রিপ করতে হবে শুনেই ভ্রু কুঁচকে ফেলেছেন, আমাদের দেশে সাধারনত স্লিপিংব্যাগ বলতে  জনগন  যেগুলো চিনে (বাইতুল মোকাররম ও কাকরাইল এ পাওয়া যায়) তা মোটেও ব্যাকপ্যাকিং এর উপযোগি স্লিপিংব্যাগ না, ওগুলো বলে চলে সেলাই করা একটা লেপ বা কম্বল।

নিজের জন্য সঠিক স্লিপিংব্যাগটি বাছাই করার জন্য আমাদের জানতে হবে স্লিপিংব্যাগের সবচেয়ে জরুরি তিনটি বিষয়:

তাপমাত্রার বা টেম্পারেচার রেটিং:

গায়ের জামা যেমন একেক পরিবেশে ও সিসনে একেক রকমের হয়, স্লিপিংব্যাগও তেমন একেক তাপমাত্রা বা পরিবেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হয়। আমি যেই স্লিপিং ব্যাগ দিয়ে বান্দারবনে ক্যাম্পিং করব সেটা দিয়ে আমি এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে মাইনাস তাপমাত্রা ঠান্ডায় থাকতে পারবো না, আবার একই ভাবে মাইনাস তাপমাত্রার উপযোগি ব্যাগে আমি বান্দরবানে ঘুমাতে পারবো না, গরম লাগবে।

স্লিপিং ব্যাগে সাধারনত রেটিং দেয়া থাকে কমফোর্ট লেভেল ও লোয়ার লিমিট/ এক্সট্রিম লিমিট এইভাবে। তাপমাত্রা নির্ভর করে ভেতরের ফিলিং কত পুরু, শেল ম্যাটেরিয়াল বা উপরের কাপড়ের কোয়ালিটি এবং ব্যাগের শেপের উপর। ফিলিং যত ফ্লাফি বা ফুলাফুলা থাকবে তত ভালো। খেয়াল রাখতে হবে যে স্লিপিং ব্যাগ নিজে কোন গরম তৈরী করেনা, শুধুমাত্র আপনার শরীরের গরম টাকে আটকে রাখে বাইরের ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে।

কমফোর্ট লেভেল: একজন পূর্নবয়স্ক নারী সর্বনিম্ন এই তাপমাত্রায় আরামে ঘুমাতে পারবে। এর নীচে তাপমাত্রা নামলে ঠান্ডা লাগবে।  

লোয়ার লিমিট: একজন পূর্নবয়স্ক পুরুষ সর্বনিম্ন এই তাপমাত্রায় আরামে ঘুমাতে পারবে। এর নীচে তাপমাত্রা নামলে ঠান্ডা লাগবে।

কাজেই আমাদের কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন স্লিপিংব্যাগটি আমি যেই পরিবেশে ক্যাম্পিং করব তার তাপমাত্রা কাভার করতে পারে। উদাহরন: যদি পাহাড়ে বেশিরভাগ সময় আমি জুম ঘরে বা পাহাড়িদের ঘরে ঘুমাই তাহলে সেখানে তাপমাত্রা রাতের বেলা ১২-১৫ নেমে যাওয়ার কথা, সেই হিসাবে আমার স্লিপিংব্যাগকে অবশ্যই নিম্নে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে হবে। (মেয়েদের দেখতে হবে কমফোর্ট লেভেল, ছেলেদের কমফোর্ট লেভেল, আর না পাওয়া গেলে লোয়ার লিমিট)

তাপমাত্রা যখন বেশি থাকবে তখন ব্যাগের চেন খুলে বাতাস চলাচলের ব্যাবস্থা করলে গরম কম লাগবে।

শেপ ও সাইজ:

স্লিপিং ব্যাগ সাধারনত দুই শেপের হয়।

 

কিছু কিছু স্লিপিং ব্যাগ পাওয়া যায় চারকোনা ও মামি শেপের মাঝামাঝি, যেখানে মাথার হূড থাকে ও পায়ের দিকে পুরা চাপা না হয়ে সামান্য চাপা থাকে। যাদের মামি শেপ পছন্দ কিন্তু ঘুমাতে সাছ্যন্দ বোধ করেন না তারা এইগুলি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

 


 

ফিলিং:

ব্যাকপ্যাকিং ও ক্যাম্পিংএর জন্য আউটডোর স্লিপিংব্যাগে দুই ধরেনর ফিলিং ব্যাবহার হতে পারে, ডাউন অথবা সিনথেটিক ফাইবার।

 

আউটার শেল:

স্লিপিং ব্যাগের উপরের কাপড় টাকেই শেল বলা হয়। সাধারনত পলিয়েস্টার বা রিপস্টপ নাইলনের হয়ে থাকে। ভালো স্লিপিং ব্যাগের উপরের শেল ওয়াটার রিপেলেন্ট হয়ে থাকে যেনো ভেতরের ফিলিং ড্যাম্প না হয় শ্যাতশ্যাতে পরেবিশে। ব্যাগের শেল ওয়াটার রিপেলেন্ট কিনা বুঝতে এক ফোটা পানি ফেললে পানি ফোটা ফোটা হয়ে গড়িয়ে পড়বে, আর যদি কাপড় পানি শুষে নেয় তাহলে বুজতে হবে ওয়াটার রিপেলেন্ট না। পলিওয়েস্টারের তুলনায় রিপস্টপ নাইলন বেশি টেকশই, নরম ও ওজনে হালকা হয়ে থাকে।

 

লাইনিং:

ভেতরের কাপড়টাকে লাইনিং বলা হয়। সাধারনত নরম নাইলন অথবা পলিয়েস্টার এর হয়। পলিয়েস্টারের তুলনায় নাইলন লাইনিং বেশি আরামদায়ক ও নরম হয়ে থাকে।

টিপস: একেক জনের শরীরের তাপমাত্রা একেক রকম। একই স্লিপিং ব্যাগে কেই আরাম আবার কেউ কষ্ট পেতে পারে। নীচের কিছু জিনিষ খেয়াল রাখতে হবে:

ফজলে রাব্বি

৪ ডিসেম্বর ২০১৪

 

নীচের স্লিপিংব্যাগ গুলি দেখতে পারেনঃ

Exit mobile version