চরম ঠাণ্ডায় ট্রেকিং এর কাপড় চোপড়, কি ধরনের কাপড় পড়বেন…
অতি ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় আমরা যে প্রণালি তে গরম কাপড় নিব সেটাকে বলা হয় লেয়ার ক্লদিং বা লেয়ারিং সিস্টেম। সাধারণ ঘুরতে যাওয়ার সাথে ট্রেকিং বা যেকোনো আউটডোর এক্টিভিটির পার্থক্য হচ্ছে গরমে ঘেমে যাওয়া থেকে শিতে কাপাকাপি কোনকিছুই বাদ যায় না। লেয়ারিং সিস্টেমে প্রয়োজন মাফিক কাপড় কমান বাড়ান যায়। লেয়ারিং সিস্টেমে মূলত ৪ টি মুল লেয়ার থাকে:
সিনথেটিকের ইনার লেয়ার। খুবই পাতলা শরীরের সাথে লেগে থাকে এমন ইনার লেয়ার। বেস লেয়ার কখনই সুতি হওয়া চলবে না, সুতি ঘাম শুষে নিয়ে ভিজে থাকবে ও ঠাণ্ডা বাড়িয়ে তুলবে শরীরের। অপর দিকে সিনথেটিকের লেয়ার ঘাম শুষে নিবে ও তা বের করে দিবে বাস্পাকারে। এই লেয়ারটিকে শরীরের সাথে লেগে থাকা হতে হবে, ঢিলা হলে চলবে না।
বেস লেয়ারের পরের লেয়ার টি মিড লেয়ার। মিড লেয়ার কয়েক-ভাবে করা যায়। সিনথেটিকের গেঞ্জি বা হাল্কা সুয়েটার সাথে বাতাস আটকায় এমন একটা পাতলা জ্যাকেট। ফ্লিস এর পুলওভার বা গেঞ্জি হলেও চলবে।
মোটা ফুলা ফুলা জ্যাকেট যা আপনাকে সবচেয়ে বেশি উষ্ণতা দিবে। সিনথেটিক ফাইবার (প্রাইমালফট / থারমবল বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ব্রান্ড ডেকে থাকে) অথবা গুস ডাউনের তৈরি। গুস ডাউন বা হাসের লোম থেকে তৈরি জ্যাকেট ওজনে হাল্কা, প্যাক করলে অনেক ছোট এবং সবচেয়ে বেশি গরম। ভিজে গেলে শুকাতে অনেক সময় লাগে। এই লেয়ার সাধারণত যখন কন একটিভিটি থাকে না তখন লাগবে, যেমন রাতে, সকালে ও দিনের মাঝে বিশ্রামের সময়।
সিনথেটিক ফাইবারের তৈরি জ্যাকেট ডাউনের থেকে ভারি, সাইজে বড় ও গরম তুলনামূলক ভাবে কম। ভিজে গেলেও কাজ করে। এই লেয়ারের জ্যাকেটের উপরের কাপড় সাধারণত পাতলা ওয়াটার রেপেলেন্ট ব্রিদেবল পলিসটার বা নাইলনের হয়। মনে রাখতে হবে এই লেয়ারকে কোনভাবেই ভেজান যাবে না।
এই লেয়ারটি লাগবে শুধুমাত্র খারাপ আবহাওয়া থাকলে। বৃষ্টি বা তুষারপাত হলে। আউটার শেল হতে হবে ওয়াটার প্রুফ কিন্তু ব্রিদেবল। বাইরে থেকে পানি ধুঁকবে না কিন্তু ভেতর থেকে ঘামের বাষ্প বের হয়ে যাবে।
- শরীরের নিচের অংশে বেস লেয়ার, সাথে ফ্লিস বা সিনথেটিকের মিড লেয়ার, সবার শেষে ওয়াটার প্রুফ একটা প্যান্ট।
- মাথায়/গলায় বালাক্লাভা, পায়ে প্রথমে সিনথেটিকের পাতলা মোজা, উপরে আর একটা বা দুইটা মোটা সিনথেটিকের মোজা।
ফজলে রাব্বি/৮ ডিসেম্বর ২০১৪
কাভার ছবিঃ কাম্রুজ্জামান কাম্রুল
